#আক্ষেপশেষপ্রহর

#Part3

Fake Love (Sesson 1)


দুইদিন পর স্কুলের যাওয়ার পথে ঐ ছেলে আবারও পথ ঘেরাও করে এবং আমার হাত ধরার চেষ্টা করে, আমি দৌড় দিয়ে স্কুলে চলে যাই। সেইদিন আরও কয়েকজন বান্ধবীকে নিয়ে কোন রকম বাড়িতে ফিরে আসি। আমি আমার বড় ভাইকে সবটা জানাই। বড় ভাই রেগে আগুন, কেন তাকে আমি আগে জানায়নি।

 

বড় ভাই সেইদিন আর কিছু বলেনি। পরেরদিন ভাইজান তার অফিস বন্ধ করে আমার সাথে যায়, গিয়ে দেখে ছেলেটি ঐখানে দাড়িয়ে আছে। ভাই ছেলেটি ডাকে এবং তাকে বুঝিয়ে বলে সে যেন তাকে ডিস্টাব না করে। তারপর বড় ভাই আমাকে স্কুলে দিয়ে আসে। এভাবে দুই-তিন-১ সপ্তাহ ভাইয়া আমার সাথে যাওয়া আসে করে। ছেলেটিকে ও দেখা যাচ্ছে না।

 

তাই আজ ভাই বলল তুই যা ঐ ছেলে তোকে আর ডিস্টাব করবে না। আমার একটা অফিসে গুরুত্বপূর্ণ মিটিং আছে । আজ যেতে পারবো না।

 

অধরা ঠিকঠাক মত স্কুলে যায়, কিন্তু আসার সময় ঐ ছেলে আবার পথ আটকিয়ে দাড়িয়েছে এবং বলতেছে কী মনে করেছো যে, তোমার ভাইয়ের হুমকির ভয়ে আমি এই এক সপ্তাহ আসেনি। কিন্তু তা না আমি একটু অসুস্থ ছিলাম তাই আসেনি। বিভিন্ন আরো কথা বলে, অধরা সেখান থেকে দৌড়ে বাসায় এসে ভাইকে ফোন দেয়:-

 

আরাবী (অধরার ভাই): হ্যালো,

অধরা: ভাইয়া (কাদো কাদো কন্ঠে)।

আরাবী (অধরার ভাই): কিরে বোন তোর কী হয়েছে?

অধরা: ভাই ঐ ছেলেটা!

আরাবী (অধরা ভাই): ঐ ছেলেটা মানে!

 

অধরা এক নিমির্ষে সব কথা বলল:-

আরাবী শোনার সাথে সাথে তার মাথায় রক্ত উঠে গেল, সে অফিস থেকে ছুটি নিয়ে ঐ গলির কোনায় গিয়ে চায়ের দোকানে ছেলেটিকে পেল। আরাবী ওর মানে রাহাত (বখাটে ছেলে) র কলার ধরা দোকান থেকে বাহিরে এনে রাম ধোলাই দিল এবং বলল নেক্সট টাইম যদি আমার বোন অন্য কোন মেয়েকে এই গলিতে ডিষ্টাব করিছ তাহলে পঙ্গু করে ছাড়মু। বলে আরাবী সেখান থেকে প্রস্তান করল।

 

প্রায় অনেকদিন হয়েগেল ছেলেটিও আর অধরাকে ডিস্টাব করল। আর আশে পাশে রাস্তায় ও দেখা গেল না।

 

>> দুই মাস পর হঠ্যাৎ একদিন স্কুল থেকে আসার পথে ঐ গলির মাঝখানে রাত এবং তোর কয়েকজন বন্ধুকে দেখতে পেল। অধরা ভয় পাচ্ছে কারণ আজ তার সাথে কেউ নায়, অধরা ভয়ে ভয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যায়।

রাহাত পথ আটকিয়ে দাড়ায়, অধরা ভয় দুখরে মরে, আল্লাহ ডাকে, আল্লাহ আমাকে এই যাত্রায় বাঁচাও। রাহাত অধরার দিকে আগাতে থাকে, অধরা ভয়ে কাপতে থাকে।

তাইতো বলা চলে,

হয়তো আজ আমি হব নিঃস্ব

হবে আমার মরননাস্ত

জানি না আজ বিধাতা কোথায়,

আমি কি বাচঁব?

ওদের চাওয়া যেন শকুনের মত,

বাড়ি কি ফিরতে পারব?

ভাইয়া তুমি কোথায়.

শকুনে তীব্র ‍দৃষ্টি হয়তো আজ করবে আমায় কলঙ্ক।

ভাইয়া-রে ভাই,

আমি আর মনে হয় ফিরবো না।

 

রাহাত অধরাকে নিয়ে একটি গাড়িতে উঠল এবং হাঁত-পা, মুখ বেধে জঙ্গলের দিকে নিয়ে গেল,

প্রায়-সাতদিন অধরাকে শকুনেরা মত ছিড়ে ফুরে গণদর্ষণ করেছে। 

এদিকে অধরার ভাই অধরাকে তন্য তন্য করে খুজছে। পুলিশের সহায়তা এবং বিশেষ সূত্রের মাধ্যমে অধরার খোজ পায়, সেখানে গিয়ে রাহাতে গ্রুপ সহ পুলিশ গ্রেফতার করে। এদিকে অধরাকে দেখে ভাই যেন বিস্মিত হয়ে যায় নিজের জামা খুলে বোনের শরীর দিয়ে দ্রুত হসপিটালে নিয়ে যাওয়া হয়।

 

তুষা কেদেঁ ফেলল। এ যেন অনেক দিনের জমানো কান্না। আসিফ কাঁদতে দিল। কেদে নিক। কাঁদলে মনটা ফ্রেস হবে। আসিফ যেন তার অস্থিত্ব হারিয়ে ফেলেছে। কীভাবে পারলো? ওরা মানুষ! ঐ নর পশুদের ফাসি হওয়া উচিত।

 

আসিফ (মনে মনে ভাবে, যদি আমি এই বাংলার প্রধানমন্ত্রি হতাম, তাহলে বাংলার বুক থেকে এইসব কাপুরুষদের নিঃবিচারে হত্যার হুকুম দিতাম)।

 

আসিফ: তুষা, এই তুষা।

তুষা: ....................(চুপ করে আছে)।

আসিফ: তুষা?

তুষা: হুম।

আসিফ: আচ্ছা বাকিটা পরে শুনবো, এখন একটা কথা শোনো!

তুষা: কি?

আসিফ: রাতরে খাইছে? না খাইলে আমি ফ্যাক্স খাবার পাঠাইয়া দিচ্ছি খেয়ে নেও।

তুষা: খাইছি। ফ্যাক্সে মানে! ফ্যাক্সে কি খাবার পাঠানো যায়?

তুষা: আচ্ছা শোনেন আমি আমার কথাগুলো সব বলব আজকে আপনার শুনতে হবে।

আসিফ: ঠিক আছে বলো শুনছি আমি।

 

তুষা তারপর আবার বলা শুরু করল:-

 

<<<>>> 

হসপিটালে প্রায় তিনমাস পর জ্ঞান ফিরলো। সবাই বেশ খুশি হলো কিন্তু আমি ওদেরকে দেখে কান্নায় ভেঙ্গে পরলাম এবং একসময় জ্ঞান হারালাম। এভাবে কেটে গেল আরও তিনমাস। ছয়মাস পর আমি যখন চোঁখ খুললাম তখন নিজেকে শহরে উপলব্ধি করলাম। বাবা-মা, ভাই সবাই বুঝাতে লাগল, আমাকে আসত্ত্ব করল যে, তাকে আমরা জেল খাটিয়েছি এবং তার (রাহাতের) ফাসি রায় আজ।

 

আসিফ এবার খুব খুশি হলো মনে মনে আল্লাহকে ধন্যবাদ দিল।

 

তুষা আবার বলল আমি নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করি কিন্তু পারি না, তাই ভাইয়া আমাকে বিভিন্ন খেলাধূলা, ঘুরতে নিয়ে যাওয়া, আমার প্রিয় খাবার গুলো আমাকে এনে খাওয়াতো।

আমাকে ভাইয়া মিরপুর ২ নাম্বার মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজে ভর্তি করালো। ঠিকমত স্কুলে নিয়ে যেত আসত। এইতো আমি ইন্টার ফাস্ট ইয়ারে পড়ি। ভাই আমাকে একটা ফোনও কিনে দিছে।

আর আজ আপনি-আপনার গল্প গুলো আমার ভালো লাগত, আপনার ভাই-বোনের গল্পটা আমাদের সাথে মিলে গেছে। আমার ভাইয়ের যেন আমি প্রাণ। আপনার গল্পগুলো পড়ে আমি নিজেকে অনেক ভালো মনে করছি, পিছনের গল্পগুলো এখন আর মনে নেই, এখন নিজেকে সুস্থ অনুভব করছি, ধন্যবাদ আপনাকে। আমি আপনার কথা আমার ভাইয়াকে বলেছি, ভাইয়া খুব খুশি হয়েছে, সে বলেছে সে আপনার সাথে কথা বলবে।

আসিফ: ধন্যবাদ দেওয়ার কিছু নাই, কেউ যদি আমার গল্প পড়ে ভালো হয় তাহলে তো সেটা আমার জন্য অনুপ্রেরণা। আমি গল্প লিখতে আরও উদ্বিগ হবো।

তুষা: আমি কেউ মানে?

আসিফ: ওকে, তুমি আমার ফ্রেন্ড। হইছে এবার?

তুষা: না হয়নি।

আসিফ: হওয়া লাগবে না। এখন ঘুমাও, আর হ্যা সকালে ফোন দিব।

তুষা: আচ্ছা ঠিক আছে। ধন্যবাদ আপনায়।

 

<>> 

আসিফ ভোর সকালে ঘুম থেকে উঠে ফোন দিল তুষাকে.

আসিফ : হ্যালো, আসসালামুআলাইকুম।

তুষা:.............................

আসিফ: হ্যালো, ঐ হ্যালো।

তুষা:..........................

আসিফ ফোন কেটে আবার কল দিল।

তুষা: হ্যালো,

আসিফ: আস্সালামুআলাইকুম ঘুমকুমারী ম্যাডাম।

তুষা: অলাইকুম আসসালাম।

আসিফ: গুড মর্নিং, আমার সৌন্দয্যের আকাশের আলো।

তুষা: সুভ সকাল, কেমন আছেন আপনি?

আসিফ: ভালো।:- হাসি দিয়ে একটি কবিতা আকারে ছন্দ বলা শুরু করল

ও আমার ঘুমকুমারী!

ঘুমের নিদ্রা ফেলে

একটু চোঁখের পাতা খুলে,

হাসি মাখা কন্ঠে

আমাকে একটু ভালো বাসবেন।

আপনার হাসির ছন্দে

আমি যাব হারিয়ে,

আপনার হৃদয়ে গহিনে।

আপনি কি শুনছেন?

তুষা: হুম। আপনি কি আমাকে ভালোবেসে ফেলেছেন?

আসিফ: না, ভালোবাসতে একটা মানুষকে চিন্তে হয়, জানতে হয়, বুঝতে হয়, তার চাহিদা কি সব।

তুষা: আমি তো জানি আপনার ব্যাপারে সব।

আসিফ: তুমি কিছুই জানো, তুমি আমার বাহিরে জগৎটাকে চিনো, ভেতরটা নয়!

তুষা: সেটা ও চিনি।

আসিফ: ওকে আচ্ছা। এখন রাখলাম।

তুষা: এই শোনোন।

আসিফ: হুমম, কি?

তুষা: খাইছেন?

আসিফ: না, আগে আপনি খান, খেয়ে আমাকে উদ্ধার করেন!

তুষা: আচ্ছা, কিন্তু এভাবে কথা বলছেন কেন?

আসিফ: ও সরি। আচ্ছা খেয়ে নেও। আমি ও খেয়ে নিচ্ছি।

তুষা: ওকে।

 

<><> এভাবে কেটে যায় বেশ কিছুদিন, কে, কি করল, কি খেলো, কোথায় গেল আর কি>

তুষা এর মাঝে অনেক বার বলেছে আমি আপনাকে ভালোবাসি, আসিফ অনেক বুঝার চেষ্টা করেছে। কিন্তু সে বুঝতে রাজি না। আসিফের ও অনেক কিছু ভালো লেগে যায় তুষার।


To-Be CONTINUE


পূর্বের পর্ব:-

আক্ষেপ- শেষ প্রহর। Fake Love (Season 1) । পর্ব -১। #RAAZ

আক্ষেপ- শেষ প্রহর। Fake Love (Season 1) । পর্ব -২ #RAAZ