সেপ্টেম্বর/অক্টোবর
২০১৫ ইং সালে, দিনটি ছিল কোনো হরতালের দিন/অন্য কোনো কিছু, সারাদিন বাসাই আসিফ, আজ
সারাদিনে একটি কল ও দেয়নি। দিবে বা কীভাবে সে তো ঘুমাচ্ছে। তুষা অনেকবার কল দিয়েছে,
কিন্তু ফোন সাইলেন্ট থাকার কারনে, আসিফের তাহা খবর নাই।
আসিফের
ঘুম ভাঙ্গল বেলা তিনটায়, অফিসের ফোন পেয়ে, অফিসের ফোন ছিল আলাদা। আসিফ ফোন রিসিব করল।
আতিক
ভাই (হেড অফিস): আসিফ নতুন ট্রেইলার আসছে, হলে চালিয়ে দিও।
আসিফ:
ওকে ভাই।
<<ফোন
কেটে গেল>>
শুয়ে
শুয়ে তার পার্সোনাল ফোনটি হাতে নিল তুষা কল পেল ২০-২৫টা।
আসিফ
একটু ভয় পেয়েই কল দিল।
আসিফ:
হ্যালো, গুড মর্নিং। তুষা তুমি কেমন আছো, কি করো?
তুষা:
এখন কয়টা বাজে?
আসিফ:
কেন আবার সকাল. আট................(চুপ)।
তুষা:
আট কি?
আসিফ:
(চুপ হয়ে আছে)...
তুষা:
তুমি আর আমায় কল দিবে না (এতদিন কিন্তু তুষা তুমি বলা শিখে গেছে)।
ফোন
কেটে গেল>>
আসিফ
শুয়ে আবার ফোন দিল:-
তুষা:
কি?
আসিফ:
তুষা একটা কথা বলতে চাই একটু শুনবা?
তুষা:
কি বলো?
আসিফ:
তুষা আমি কিন্তু একজন সাধারণ শান্ত টাইপের মানুষ। তুষা আমি প্রেম বুঝিনা, আমি বুঝি
পৃথিবীর চরম র্দূদশার মাঝে যদি কেউ হাঁত ধরে বলবে, চলো আমার কিছুই চাই না, আমি চাই
তুমি শুধু আমার সাথে হাটবা, তুমি আমাকে কবিতা আবৃত্তি করে শুনাইবা এবং আমার জন্য, আমার
নিজের জন্য প্রত্যেকদিন একটা করে গল্প লিখবা।
তুষা:
হুমম তো।
আসিফ:
তুষা (আমি তোমায় ভালোবাসি) অন্যরকম। কিন্তু এই অন্যরকম ভালোবাসায় তোমার সহযোগীতা চাই।
তুষা:
সত্যি তুমি আমাকে ভালোবাসো?
আসিফ:
হুমম। কিন্তু ভালোবাসায় আমায় সহযোগীতা করতে পারবে?
তুষা:
যেমন,
আসিফ:
মনে করে আমি ভূল করেছি তুমি আমায় ক্ষমা করে দিবা, আমার ভূল গুলো শুধরাইয়া দিবা?
তুষা:
হুমম পারবো।
আসিফ:
তুষা ভেবে উত্তর দাও, এরকমও হতে পারে তোমার ভালোর জন্য রাগ করেছি। কিন্তু তখন?
তুষা:
তখন আমি ভেবে নিব, তোমার রাগ আমার ভালোবাসা।
আসিফ:
তাই, তাহলে কথা দাও, তুমি সারাজীবন আমারই থাকবে?
তুষা:
কথা দিলাম, আমি তোমারই থাকবো আজীবন।
আসিফ:
তুষা তোমাকে অনেক অনেক ভালোবেসে ফেলেছি।
তুষা:
আমিও ।
তুষা:
তুমি কি খাইছো?
আসিফ:
না, শুয়ে আছি।
তুষা:
কি বলছে যাও খেয়ে নাও, পরে কথা বলবো। যা ও তারা তারি যাও।
আসিফ:
আচ্ছা। তুষা?
তুষা:
হুমম,
আসিফ:
ভালোবাসি!!
তুষা:
আমিও
আসিফ:
আমিও কি?
তুষা:
আমিও ভালোবাসি। এখন যাও আমি রাখলাম।
“তুষা
আজ অনেকটা এক্সসাইটেট। আজ আসিফ তাকে ভালোবাসার কথা বলেছে। আজ তুষার খুশির দিন।”
এভাবে
বেশ কিছুদিন কথা চলতে থাকে আসিফ ও তুষার.। দু’জনেই তাদের ভালো মন্দ কথা শেয়ার করে।
আসিফ
আজ পিরোজপুর মড্ডবাড়িয়া থেকে ঢাকা উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। কিন্তু তুষাকে সে জানায় চমক
দিবে বিদায়। আসিফ আজ খুব আনন্দে ঢাকা ফিরে। কারণ তুষার সাথে সে দেখা করতে পারবে। আসিফ
গাড়ীতে উঠে তুষাকে কল করে।
তুষা:
হ্যালো
আসিফ:
হ্যালো, আসসালামু আলাইকুম বেগম সাহেবা।
তুষা:
অলাইকুম সালাম, কোথায় যাচ্ছ তুমি?
আসিফ:
রাজবাড়ী যাচ্ছি।
তুষা:
কবে যে তুমি আমার সাথে দেখা করবা।
আসিফ:
হবে একদিন না একদিন। হয়তো কাল আবার হয়তো অনেকদূর, বাহ খুব কাছাকাছি, তোমার স্বপ্ন পূরণ
হতে যাচ্ছে।
তুষা:
কি যে বলো তুমি আগা ঘোরা কিছুই খুজে পাচ্ছি না।
আসিফ:
ও এত কিছু তোমার বুঝা লাগবে না।
তুষা:
মানে?
আসিফ:
মানে!
ভালোবাসি তোমায় অঝর গোলাপের পাপড়ির মত
ভালোবেসেছি তোমার ঐ অশ্রুকে
কদমের ফুলদানির মত ফুটবো তোমার হৃদয়ে ভালোবাসা হয়ে।
ভালোবাসি, সত্যি আমি তোমায় অনেক ভালোবাসি।
তুষা:
তাই বুঝি! তাহলে আমিও তোমায় ভালোবাসি ।
আসিফ:
আচ্ছা, ধন্যবাদ আমার প্রিয়তা, প্রিয়সিনী।
তুষা:
তুমি আমার প্রিয়............... এই তোমার বাস ছাড়বে কয়টায়?
আসিফ:
এইতো ছেড়েছে আধা ঘন্টা হলো।
তুষা:
আচ্ছা তাহলে ঘুমাও।
আসিফ:
ওকে।
ফোন
কেটে জানালার পাশে মুখ ফিরে আকাশ পানিয়ে তাকিয়ে আকাশ কল্পনার জগৎতে হারিয়ে যায়।
হঠ্যাৎ
এক্সকিউজ মি.....।
আসিফ
ঘুম থেকে লাফিয়ে ওঠে, একটি মেয়েটির দিকে তাকিয়ে, কি হয়েছে আপু কিছু বলবেন?
মেয়েটি:
ভাই একটু বসতে পারি?
আসিফ:
মেয়েটির দিকে তাকিয়ে..মনে মনে অনেক কিছু ভেবে না করে দিল।
মেয়েটি:
ভাইয়া অনেকক্ষণ দাড়িয়ে আছি।
আসিফ:
কন্ট্যাকদারকে বলুন, আমার এই সার্ভার নিচে রাখা যাবে না কোনোমতে তাই প্লিজ ক্ষমা করুন।
মেয়েটি:
........................ কিছুক্ষণ চুপ মেরে সরে দাড়াল।
আসিফ
মনে মনে বলতে লাগল এমনতেই মেয়েদের সাথে কথা বলি না সে আবার সুযোগ খুজা শুরু করেছে।
আর তাছাড়া তুষা একটু ঘ্রাণ পেলে আমাকে খেয়ে ফেলবে।
এইতো
সেইদিন অটোরিক্সা চড়ে যাচ্ছিলাম, মেয়েটি পিছনের সিটে বসা আসিফ অটোর মাঝের সিটে বসা।
বলতে গেলে বলা যায় আসিফ এবং ঐ মেয়েটি ফেইস টু ফেইস। এমন সময় ম্যাডাম মহোশয়ের ফোন।
তুষা:
হ্যালো
আসিফ:
হ্যালো
তুষা:
কই তুমি?
আসিফ:
এইতো মড্ডবাড়িয়া শহরে যাচ্ছি।
ঠিক
তখনই বলে উঠল, ভাই আপনার নাম কি হিমু, আপনি কি গল্প ও কবিতা লিখেন?
আসিফ
মাথা নাড়ল,
ভাইয়া
আপনার গল্প ও কবিতাগুলো অনেক সুন্দর। আমি কি আপনার নাম্বারটি পেতে পারি?
তুষা:
কে নাম্বার চাইল?
আসিফ:
একটি মেয়ে।
তুষা:
তুমি নাম্বার দিয়েছো?
আসিফ:
আরে না।
তুষা:
ঐ মেয়ে তোমার সাথে কথা বলল,, এখনই না বলো!
আসিফ:
আচ্ছা বলছি তুমি ফোন রাখ।
তুষা:
মানে ফোন রাখব মানে, তুমি কি বলতে চাও?
আসিফ:
বললাম তুমি ফোন রাখলে, আমি মেয়েটিকে বুঝিয়ে বললে হয়ে যেত। নাম্বার আর দেওয়ার প্রয়োজন
হত না।
তুষা:
ঠিক আছে।
আসিফ
কল করল, তুষা ধরল না, রিং হচ্ছে, বেজে কেটে যাচ্ছে। প্রায় দশটি কল দেওয়া শেষ তুষা ফোন
ধরার নাম গন্দ নাই। আসিফ এবার ম্যাসেজ করল:-
আমার
প্রিয়তা তুমি যদি এখন রাগ করো তাহলে দেখা যাবে আমি টেনশন করছি, গাড়ি থেকে নামার পরে
এক্সসিডেন্ট হয়ে গেল। তখন কিন্তু চির জীবনের জন্য হারিয়ে ফেলবা। আর রাগ যদি করতে হয়
বাসায় যাওয়ার পরে রাগ করিও।
পূর্বের পর্ব:-

2 Comments
nice post
ReplyDeletethanks too brother
Delete